শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসের প্রভাব: গার্মেন্ট এক্সেসরিজ খাতে ১৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনাভাইরাসের প্রভাবে গার্মেন্ট পণ্যের এক্সেসরিজ শিল্পে দেড় হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাস্টমসে দ্রুত মালামাল খালাস এবং সুদমুক্ত ঋণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএপিএমইএ সভাপতি আবদুল কাদের খান।

বিজিএপিএমইএ সভাপতি আবদুল কাদের খান বলেন, করোনাভাইরাস এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় ইতিমধ্যে দুই দফায় সেখানে ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এই সংকট কবে নাগাদ সমাধান হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। সংকট আরও তিন-চার মাস দীর্ঘায়িত হলে এবং এ কারণে পণ্য পাঠানো সম্ভব না হলে এ খাতের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যে কারখানায় থাকা কাঁচামালের মজুদ শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রচ্ছন্ন ও সরাসরি হিসাবে ৭০০ কোটি (৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার এক্সেসরিজ পণ্যের মধ্যে সরাসরি রফতানির পরিমাণ একশ কোটি ডলার।

সংকট মোকাবেলায় বিজিএপিএমইএ’র পক্ষ থেকে বেশকিছু প্রস্তাব দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে- আমদানির উদ্দেশ্যে যেসব এলসি খোলা হয়েছে, সেসব পণ্য জাহাজীকরণের জন্য বন্দরে আগত কাঁচামাল নির্বিঘ্নে ও স্বল্পতম সময়ে খালাসের ব্যবস্থা করতে হবে। রফতানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ডকুমেন্টস প্রেরণ ও ছাড় সহজীকরণ করতে হবে। বন্দরে ইতিমধ্যে উপস্থিত কিন্তু চীন থেকে রফতানি সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টস ব্যাংকে না পৌঁছার কারণে বন্দরে অপেক্ষমাণ কাঁচামালের ওপর জরিমানা মওকুফের ব্যবস্থা করা।

বিজিএপিএমইএ’র সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, এই সংকট দুই মাসের বেশি দীর্ঘায়িত হলে সব মিলিয়ে একশ’ কোটি ডলারের (প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা) এক্সেসরিজ রফতানি ব্যাহত হবে। অন্যদিকে এর কারণে গার্মেন্টের ২৫ শতাংশ রফতানি ব্যাহত হতে পারে।

তিনি বলেন, সাধারণত উদ্যোক্তাদের কাছে থাকা মজুদ পণ্য দেড় থেকে দুই মাস সরবরাহ করা যাবে। হঠাৎ করে বিকল্প ব্যবস্থা থেকে নেয়া এত সহজ হবে না। কারণ যেসব বিকল্প রয়েছে, তারাও কোনো-না-কোনোভাবে চীন থেকে আমদানি করেই পণ্য তৈরি করে। চাইলেই তারা দিতে পারবে না। ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজারে কিছু পণ্যের দাম প্রায় দশগুণ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য বন্দর থেকে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া গ্রহণের মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com